চরচা ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে গতকাল সোমবার লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার।
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই পক্ষ এ চুক্তিতে সই করে। এতে ডেনমার্ক, বাংলাদেশ সরকার ও বন্দর সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
চুক্তিতে সই করেন এপিএম টার্মিনালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইন ভ্যান ডোঙ্গেন ও চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
এই চুক্তিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জন্য বড় অবদান বলে অভিহিত করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
এপিএম টার্মিনালস কেমন প্রতিষ্ঠান
এপিএম টার্মিনালস বিইভি ডেনমার্কের মূল প্রতিষ্ঠান এ. পি. মোলার। এপিএম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইন্টিগ্রেটেড লজিস্টিকস কোম্পানি মেয়ার্স্ক এ/এসের (মেয়ার্স্ক গ্রুপ) একটি পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এটি ২০০১ সালের জানুয়ারিতে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে তিন দেশে তারা নতুন টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্পে কাজ করছে।
এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং অভিজ্ঞ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের প্রায় ৩৩টি দেশের ৬০টি কৌশলগত স্থানে আধুনিক টার্মিনাল পরিচালনা করে এপিএম টার্মিনালস। এর মাধ্যমে শিপিং ও স্থলভাগের গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর সাপ্লাই চেইন সেবা নিশ্চিত করে তারা।
এপিএম টার্মিনালসের ভাষ্য, মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তারা নতুন প্রযুক্তি, পণ্য বিনিয়োগ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা, পরিবেশের যত্ন ও কমিউনিটির প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে বৈশ্বিক বাণিজ্যকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। নতুন অবকাঠামো ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করাই তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বলে জানিয়েছে এপিএম টার্মিনালস।
বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি
সোমবারের চুক্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং ৩০ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসকে।
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে তিন বছর ধরে ছয় হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এপিএম টার্মিনালস। বিনিময়ে প্রথমে ৩০ বছর, পরে আরও ১৫ বছর অর্থাৎ মোট ৪৫ বছর মাশুল আদায় করবে তারা।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “লালদিয়া টার্মিনালে ড্যানিশ কোম্পানি এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ বাংলাদেশের বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে।”
তিনি বলেন, “এটি দেশের জন্য একটি নতুন সূচনা। এটি ডেনমার্ক ও ইউরোপ থেকে বৃহত্তর ও আরও বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের জন্য একটি নতুন দরজা উন্মোচন করবে।”
মুহাম্মদ ইউনূস এপিএম টার্মিনালকে লালদিয়া টার্মিনাল দ্রুত নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “বাংলাদেশকে অবশ্যই লাখ লাখ উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।”
তিনি বলেন, “এটা হবে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার।”
পরিবহন কোম্পানি মেয়ার্স্কের চেয়ারম্যান রবার্ট মেয়ার্স্ক উগলা বলেছেন, লালদিয়া হবে অত্যাধুনিক গ্রিনফিল্ড টার্মিনাল; সেখানে নিরাপত্তা, অটোমেশন ও স্থায়িত্বের সর্বোচ্চ মান থাকবে। এতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। সেই সঙ্গে লজিস্টিকস খাতের অগ্রযাত্রায় এটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে গতকাল সোমবার লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার।
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই পক্ষ এ চুক্তিতে সই করে। এতে ডেনমার্ক, বাংলাদেশ সরকার ও বন্দর সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
চুক্তিতে সই করেন এপিএম টার্মিনালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইন ভ্যান ডোঙ্গেন ও চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
এই চুক্তিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জন্য বড় অবদান বলে অভিহিত করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
এপিএম টার্মিনালস কেমন প্রতিষ্ঠান
এপিএম টার্মিনালস বিইভি ডেনমার্কের মূল প্রতিষ্ঠান এ. পি. মোলার। এপিএম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইন্টিগ্রেটেড লজিস্টিকস কোম্পানি মেয়ার্স্ক এ/এসের (মেয়ার্স্ক গ্রুপ) একটি পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এটি ২০০১ সালের জানুয়ারিতে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে তিন দেশে তারা নতুন টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্পে কাজ করছে।
এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং অভিজ্ঞ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের প্রায় ৩৩টি দেশের ৬০টি কৌশলগত স্থানে আধুনিক টার্মিনাল পরিচালনা করে এপিএম টার্মিনালস। এর মাধ্যমে শিপিং ও স্থলভাগের গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর সাপ্লাই চেইন সেবা নিশ্চিত করে তারা।
এপিএম টার্মিনালসের ভাষ্য, মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তারা নতুন প্রযুক্তি, পণ্য বিনিয়োগ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা, পরিবেশের যত্ন ও কমিউনিটির প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে বৈশ্বিক বাণিজ্যকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। নতুন অবকাঠামো ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করাই তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বলে জানিয়েছে এপিএম টার্মিনালস।
বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি
সোমবারের চুক্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং ৩০ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসকে।
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে তিন বছর ধরে ছয় হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এপিএম টার্মিনালস। বিনিময়ে প্রথমে ৩০ বছর, পরে আরও ১৫ বছর অর্থাৎ মোট ৪৫ বছর মাশুল আদায় করবে তারা।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “লালদিয়া টার্মিনালে ড্যানিশ কোম্পানি এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ বাংলাদেশের বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে।”
তিনি বলেন, “এটি দেশের জন্য একটি নতুন সূচনা। এটি ডেনমার্ক ও ইউরোপ থেকে বৃহত্তর ও আরও বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের জন্য একটি নতুন দরজা উন্মোচন করবে।”
মুহাম্মদ ইউনূস এপিএম টার্মিনালকে লালদিয়া টার্মিনাল দ্রুত নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “বাংলাদেশকে অবশ্যই লাখ লাখ উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।”
তিনি বলেন, “এটা হবে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার।”
পরিবহন কোম্পানি মেয়ার্স্কের চেয়ারম্যান রবার্ট মেয়ার্স্ক উগলা বলেছেন, লালদিয়া হবে অত্যাধুনিক গ্রিনফিল্ড টার্মিনাল; সেখানে নিরাপত্তা, অটোমেশন ও স্থায়িত্বের সর্বোচ্চ মান থাকবে। এতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। সেই সঙ্গে লজিস্টিকস খাতের অগ্রযাত্রায় এটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।