
বাংলাদেশের একমাত্র ক্যাফে কর্নারেই বানানো হয় মাটন ক্রাম চাপ। ব্রিটিশ কলোনিলায় যুগ প্রভাবিত এই খাবার প্রথম বানান ক্যাফে কর্নারের তৎকালীন শেফ জোসেফ। এখন সেই ধারাবাহিকতা রেখে চলেছেন মো. মহসিন।

পুরান ঢাকার অলি-গলিতে পালিত হচ্ছে সাকরাইন উৎসব। প্রায় প্রত্যেক বাড়ির ছাদে ছোট-বড় সবাই মেতেছে ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দে।

ব্রেড ক্রাম দিয়ে তৈরি হয় পুরান ঢাকার ক্যাফে কর্নারের আলুর চপ। ভেতরে থাকে খাসির কিমা।

ক্যাফে কর্নারের চিংড়ি ফ্রাই: পুরান ঢাকার ক্যাফে কর্নারের চিংড়ি ফ্রাই গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয়। দাম ঠিক হয় চিংড়ির সাইজ অনুযায়ী।

ক্রাম চাপ এমনই এক খাবার যেটি পাওয়া যায় পুরান ঢাকার বাংলাবাজারের ক্যাফে কর্নারে। খাসির পাঁজরের মাংস আর নানা মশলার মিশ্রণে ব্রেড ক্রাম্ব দেওয়া এই পদটি কলোনিয়াল যুগের খাবারের ঐতিহ্য বহন করছে আজও।

ঢাকা শহরে এখনো ব্রিটিশ আমলের খাদ্য-সংস্কৃতি ধরে রেখেছে পুরান ঢাকার নিউ ক্যাফে কর্নার। ৬৫ বছরের পুরনো এই দোকানে পাওয়া যায় মাটন ক্রাম চাপ। যা পুরো দেশে আর কোথাও পাওয়া যায় না। দেশের প্রখ্যাত সব লেখকদের পদচারণায় এক সময় মুখর ছিল এই ক্যাফে।

১৮৭৪ সালে ভারতের গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যারিং নর্থব্রুকের সম্মানে ঢাকার ফরাশগঞ্জে তৈরি করা হয়েছিল ‘লালকুঠি’। কাগজে-কলমে নামটি নর্থব্রুক হল হলেও সবাই এটিকে লালকুঠি নামেই বেশি চেনে। এই ভবনটির সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। ১৯২৬ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ যখন ঢাকায় আসেন তখন তাকে এই ভবনেই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

গাড়ির পুরনো পার্টস ও যন্ত্রাংশ বিক্রি হয় পুরান ঢাকার ধোলাইখালের টং মার্কেটে। আমদানি করা নানা যন্ত্রপাতিও পাওয়া যায় এখানে। কোনো যন্ত্রাংশ পাওয়া না গেলে তা বানিয়ে দেন এই মার্কেটের কারিগররা

পুরান ঢাকার লালবাগে বর্জ্যের ভাগাড় থেকে প্লাস্টিক ও ধাতুর জিনিসপত্র বের করে বিক্রি করেন মোকসেদ। ছোটবেলা থেকে তিনি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।

পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে কালাচানের চা বেশ জনপ্রিয়। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাপ্রেমীরা ভিড় করেন এই ছোট্ট চায়ের দোকানে। হরেক রকমের চা পাওয়া যায় এখানে, যেমন মাল্টা ও তেঁতুল চা। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চলে এখানকার ‘লেমন টি’। অনেকের মতে, ১০ টাকায় এমন চা আর কোথাও মিলবে না।

গত ২১ নভেম্বরের (২০২৫) ভূমিকম্পে পুরান ঢাকায় তিনজন নিহত। ভূমিকম্পের প্রসঙ্গে উঠলেই আসে পুরান ঢাকার কথা। অনেকে মনে করেন, ভূমিকম্প হলে পুরান ঢাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে ব্যাপক। ঝুঁকি নিয়ে এই এলাকায় বসবাস করে কয়েক লাখ মানুষ। আতঙ্কে কাটছে তাদের দিন।