রিতু চক্রবর্ত্তী

বলিউডের কাল্ট-ক্লাসিক রোমান্টিক কমেডি ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’-তে ছবির নায়ক বানি যখন লারা নামের এক তরুণীর সাথে ফ্লার্ট করে, তখন নায়িকা নয়না তাকে বাধা দেয়। জবাবে বানি তাকে বলে যে, সে লারার সাথে ফ্লার্ট করে কারণ, নয়নার মতো মেয়েদের সাথে চাইলেই হালকা রসিকতা বা ফ্লার্ট করা যায় না; তাদেরকে শুধু গভীরভাবে ভালোবাসা যায়। এখানে একটু বলে নেওয়া দরকার, লারা চরিত্রটিকে সেখানে শুধু শারীরিক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, আর এখানাকার নায়িকার চরিত্র লারার একদম বিপরীত। এটা একটা উদাহরণ। এরকম প্রচুর মুভি বা নাটক আছে, যেখানে নায়কের যৌন আকর্ষণ একজনের প্রতি আর সত্যিকারের ভালোবাসা আরেকজনের প্রতি। এমনকি বাস্তবের নায়কদেরকেও এমনটা করতে দেখা যায়–অমুকের সাথে প্রেম বা টাইমপাস করা যায়, বিয়ে করা যায় না।
বিষয়টি কিছু আবশ্যিক প্রশ্নের জন্ম দেয়–
পুরুষের চোখে নারী কি কেবল মোটাদাগে দুই রকম? একদলকে তারা দেখে শুধু যৌনতার দৃষ্টিকোণ থেকে, আর অন্যদল সিরিয়াস ভালোবাসার জন্য? এই দুই শ্রেণির মধ্যে পার্থক্যটা আসলে কোথায়?
আধুনিক ইনফ্লুয়েন্সার, সিনেমা বা টিভি শো-গুলোতে আমরা প্রায়ই দুই ধরনের নারীর চিত্রায়ন দেখি–একদল ওয়াইফ ম্যাটেরিয়াল, আর অন্যদল কেবল ‘সাইড-চিক’। আর পুরুষ এই দুই ধরনের নারীকেই চায়। পুরুষের এই দ্বিচারিতা ও স্ববিরোধিতাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে ‘ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স’ (Madonna-Whore Complex) হিসেবে। এই ম্যাডোনা বলতে মাতা মেরিকে বোঝানো হয়েছে, যাকে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স ধারণাটি প্রথম নামকরণ ও সংজ্ঞায়িত করেছিলেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ, তাত্ত্বিক এবং মনোবিশ্লেষণের জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েড। পুরুষদের যৌন জীবনে এই জটিলতা কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফ্রয়েড বলেছিলেন, “যাদেরকে পুরুষরা ভালোবাসে, তাদের প্রতি কোনো যৌনতা থাকে না, আর যাদের প্রতি থাকে, তাদেরকে তারা ভালোবাসতে পারে না।”
সোজা কথায়, নারী হয় তাদের কাছে ‘ম্যাডোনা’ বা পবিত্রতার প্রতীক, নয়তো ‘হোর’ বা যৌন আকর্ষণ।
ফ্রয়েডের তত্ত্ব অনুযায়ী, যে পুরুষরা এই কমপ্লেক্সে ভোগে, তারা নিজেদের সঙ্গীর প্রতি দীর্ঘমেয়াদে যৌন আকাঙ্ক্ষা ধরে রাখতে পারে না। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তারা সঙ্গীর প্রতি রোমান্টিক ভালোবাসা এবং মায়ের প্রতি তাদের ভক্তি বা ভালোবাসার অনুভূতির মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পুরুষ তার তথাকথিত ওয়াইফ ম্যাটেরিয়ালের সাথে কোনো এক ‘সাইড চিকের’ জন্য প্রতারণা করে।
এই মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার কারণে অনেক পুরুষ একই নারীর প্রতি শ্রদ্ধা এবং শারীরিক আকর্ষণ–উভয়ই একসাথে অনুভব করতে পারে না। নয়নার মতো ম্যাডোনা ইমেজ যাদের, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থাকলেও অনেক পুরুষ অবচেতনভাবে তাদের যৌন আকাঙ্ক্ষার বাইরে রাখার চেষ্টা করে। অন্যদিকে, লারার মতো চরিত্রগুলোকে তারা কেবল উপভোগের বস্তু হিসেবে দেখে, যাদের প্রতি কোনো মানসিক দায়বদ্ধতা বা সম্মান থাকে না।
ফ্রয়েডের মৃত্যুর এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই ধারণাটি আজও সমাজে বিভিন্নভাবে টিকে আছে। আধুনিক মনস্তত্ত্বে এটিকে আর ফ্রয়েডের সেই সনাতন ‘ইডিপাস কমপ্লেক্স’ বা শৈশবের মায়ের প্রতি ভক্তির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত করা হয় না। বরং বর্তমানে এটি মূলত পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর যৌনতাকে নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম এবং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের অভাব, যা একজন মানুষকে সামগ্রিকভাবে (ভালোবাসা ও যৌনতাসহ) গ্রহণ করতে বাধা দেয়।
সহজ কথায়, এটি কেবল একটি মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা নয়, বরং এটি একটি গভীর সামাজিক কুসংস্কার, যা সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্সের উৎপত্তি সম্পর্কে আরেকটি তত্ত্ব ইহুদি-খ্রিষ্টান ধর্মতত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে নারীদের দুটি পৃথক শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়–হয় পবিত্র ‘দেবদূত’, নতুবা উচ্ছৃঙ্খল ‘পতিতা’। এটি এমন এক সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে, যেখানে কোনো নারীকে সতী বা ম্যাডোনা হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তাকে গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করা হয় এবং প্রশংসা করা হয়। অন্যদিকে নারীরা যদি যৌনভাবে স্বাধীন হয়, তবে তারা পতিতার ক্যাটাগরিতে পড়ে। আর তাদের যৌনতা যখন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তখন তাদের কঠোর নিন্দা, দোষারোপ এমনকি শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
নারীবাদী তত্ত্ব অনুযায়ী, ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্সের মূলে রয়েছে প্রবল নারীবিদ্বেষ বা মিসোজিনি। এটি মূলত পিতৃতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণাকেই জোরালো করে এবং নারীদের শরীর ও তাদের যৌনতাকে নিয়ন্ত্রণের একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

এই দেবাসুরের প্রকল্প চলতেই থাকে। মজার বিষয় হচ্ছে, পুরুষের ক্ষেত্রে অপছন্দনীয় চরিত্রকে অসুর বা শয়তান হিসেবে চিত্রায়নের প্রবণতা ও চর্চা থাকলেও নারীর ক্ষেত্রে এই মার্গে যাওয়ার প্রবণতাও নেই। নারীকে শুধু ‘পতিতা’ শব্দের বৃত্তে বন্দী করার চলই চলছে। বুঝিয়ে বলা যাক। শয়তান বা অসুর–একই সঙ্গে দেবকুলের বিরুদ্ধে লড়বার মতো ক্ষমতাধর। অর্থাৎ, এ দুই শব্দের সঙ্গে শক্তি বা ক্ষমতার এক গভীর সম্পর্ক আছে–হোক তা নেতিবাচক। আর নারীর ক্ষেত্রে তুলে আনা হয়, সেই শব্দ যা তাকে শক্তি বা ক্ষমতার বিকল্প উৎসের বদলে একটা বৃত্তবন্দী করতে কাজে লাগে।
ইংরেজি ‘হোর’ শব্দের আদি উৎসের দিকে তাকালে কিছুটা বোঝা যায়। ১১৫০ সালের দিকে এর প্রথম প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমান বানানের আকার পেতে সময় লেগেছিল আরও প্রায় ৩০০–৩৫০ বছর। আর এর অন্যতম একটি অর্থ হচ্ছে–‘সেই ব্যক্তি, যার আকাঙ্ক্ষা আছে’। অর্থাৎ, স্বাধীন আকাঙ্ক্ষার প্রকাশকের ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগ ছিল। এখনো কি তা নয়?
আমরা পুরুষের আকর্ষণ ও ভালোবাসার বিভিন্নতার তরফ থেকে যেমন এই জটিল মনোভঙ্গির প্রকাশ দেখি, তেমনি স্বাধীন নারী সত্তার ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ দেখি। বিশেষত, যে নারীরা সমাজে একলা বাঁচার সাহস দেখায়, নিজ অধিকার নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হয়, তাদের ক্ষেত্রে হরেদরে চরিত্রহননের উপায় হিসেবে ‘হোর’ ধারণা ও তার বাংলা প্রতিশব্দের ব্যাপক প্রয়োগ দেখা যায়। বিপরীতে দাঁড় করানো হয় পবিত্রতার নানা প্রতীকগুচ্ছকে, যার ভারতীয় উপমহাদেশীয় সংস্করণ হিসেবে অতি অবশ্যই সামনে আসে ‘সতীত্ব’ ধারণা। ফলে সমাজে ক্রমে বিস্তার পাওয়া নারীবিদ্বেষের কেন্দ্রে এই ‘ম্যাডোনা অ্যান্ড হোর কমপ্লেক্স’ ক্রিয়াশীল বললে অত্যুক্তি হয় কি?
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন-
ফ্রয়েডের এই তত্ত্বের প্রাসঙ্গিকতার জন্য এখনো এই তত্ত্ব নিয়ে কাজ হচ্ছে। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত অ্যান ইভোলিউশনারি এক্সপ্লানেশন অব দ্য ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স নিবন্ধে বলা হয়েছে, ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স নারীর স্বাভাবিক যৌনতাকে অস্বীকার করলেও গবেষকদের মতে এটি কোনো মানসিক ত্রুটি নয়। বরং বিবর্তনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হতে পারে। সাম্প্রতিক এক তত্ত্বে দাবি করা হয়েছে যে, এই মানসিকতার মূলে রয়েছে পুরুষের ‘পিতৃত্বের অনিশ্চয়তা’ (Paternal uncertainty)।
বিবর্তনীয় এই অনিশ্চয়তার কারণেই পুরুষরা মূলত দুটি ভিন্ন যৌন কৌশলের আশ্রয় নেয়: স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি। এই বায়োলজিক্যাল বা জৈবিক ভিত্তিটি বুঝতে পারলে ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্সকে যৌন দ্বন্দ্বের (Sexual conflict) একটি বিবর্তনীয় কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
সেক্সোলজিস্ট এবং এমব্রেস সেক্সুয়াল ওয়েলনেসের প্রতিষ্ঠাতা ডক্টর জেনিফার লিটনারের মতে, ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্সের প্রভাব নারী মনস্তত্ত্বে অত্যন্ত গভীর হতে পারে। তিনি বলেন,“কিছু বিষমকামী নারী পুরুষদের কাছে কাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠার জন্য নিজেদের একটি নির্দিষ্ট ধাঁচে উপস্থাপনের চাপ অনুভব করতে পারে। এ ছাড়া ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্সের কারণে নারীরা তাদের যৌন সক্রিয়তা বা যৌন অভিব্যক্তির ওপর ভিত্তি করে এক ধরনের তীব্র যৌন হীনম্মন্যতা বা লজ্জাবোধও করতে পারে।”
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রকাশিত এক নিবন্ধ অনু্যায়ী, ১০৮ জন বিষমকামী ইসরায়েলি পুরুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ম্যাডোনা-হোর ডাইকোটমি বজায় রাখার সাথে পুরুষতান্ত্রিক আদর্শের একটি ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, বিদ্যমান লিঙ্গীয় ব্যবস্থার যৌক্তিকতা প্রমাণ এবং যৌনতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির (যেমন— নারীদের যৌন পণ্য হিসেবে দেখা এবং যৌনতায় দ্বিমুখী মানদণ্ড) প্রভাব স্পষ্ট। এ ছাড়া গবেষণায় এটিও উঠে এসেছে যে, এই ধরনের মানসিকতা পুরুষদের নিজস্ব রোমান্টিক সম্পর্কের তৃপ্তি কমিয়ে দেয়। এই ফলাফলগুলো নারীবাদী সেই ধারণাকেই সমর্থন করে যে, পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো কেবল নারীদের নয়, বরং পুরুষদের কল্যাণের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ম্যাডোনা-হোর ডাইকোটমি কেবল নারীদের স্বায়ত্তশাসনকে খর্ব করে না, বরং নারীদের সাথে পুরুষদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এখন প্রশ্ন হলো নারীবিদ্বেষ নারীর ওপর কী প্রভাব ফেলে?
মিসোজিনি একজন নারীর ওপর সামগ্রিকভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলে। লিঙ্গবৈষম্য ও নারীবিদ্বেষের কারণে নারীরা যে ধরনের ক্ষতিকর পরিস্থিতির শিকার হয়, তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষার সুযোগ কমে যাওয়া, একই কর্মক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় কম বেতন পাওয়া, মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার উচ্চ ঝুঁকি, পারিবারিক নির্যাতন ও সঙ্গীর সহিংসতা, যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া এবং পুরুষদের তুলনায় সন্তান লালন-পালনের অতিরিক্ত চাপের কারণে বেড়ে যাওয়া মানসিক চাপ।
নারীবিদ্বেষী ‘ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স’-এর কারণে নারীরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, যার একটি প্রকট উদাহরণ হলো ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীকে দোষারোপ করা। ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স অনুযায়ী, ধর্ষণের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে ভুক্তভোগী নারীর ওপর চাপানো হয়। এই ভ্রান্ত ধারণার দাবি হলো–নারীটি হয়তো কোনোভাবে পুরুষটিকে প্রলুব্ধ করেছিল (যেমন- ফ্লার্টিং বা ‘আপত্তিকর’ পোশাক পরা) এবং এর ফলে পুরুষটি নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। তারা মনে করে, নারীটি যেহেতু ‘পতিতা’ (whore) ক্যাটাগরির, তাই তাকে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ করার অনুমতি তাদের রয়েছে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি কেবল নারীদের মানসিকভাবেই আঘাত করে না, বরং পুরুষদের দায়মুক্তি দেয়। এর মাধ্যমে পুরুষদের এমনভাবে চিত্রিত করা হয়, যেন তারা কেবল যৌনতাচালিত পশু, যারা তাদের আদিম প্রবৃত্তির কাছে দাস এবং যৌন পরিস্থিতিতে নিজেদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না। এ ছাড়া এই কমপ্লেক্সের কারণে ভুক্তভোগী নারীকে বারবার প্রমাণ করতে হয় যে, তিনি আক্রমণের যোগ্য ছিলেন না। এর পরিবর্তে সমাজ যদি ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের শেখাত যে, সব নারীকে মানুষ হিসেবে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা জরুরি, এবং তাদের পোশাক, দেহ বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া যৌনতার আমন্ত্রণ হিসেবে দেখাটা ভুল, তবেই এই মানসিকতার পরিবর্তন সম্ভব।

বলিউডের কাল্ট-ক্লাসিক রোমান্টিক কমেডি ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’-তে ছবির নায়ক বানি যখন লারা নামের এক তরুণীর সাথে ফ্লার্ট করে, তখন নায়িকা নয়না তাকে বাধা দেয়। জবাবে বানি তাকে বলে যে, সে লারার সাথে ফ্লার্ট করে কারণ, নয়নার মতো মেয়েদের সাথে চাইলেই হালকা রসিকতা বা ফ্লার্ট করা যায় না; তাদেরকে শুধু গভীরভাবে ভালোবাসা যায়। এখানে একটু বলে নেওয়া দরকার, লারা চরিত্রটিকে সেখানে শুধু শারীরিক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, আর এখানাকার নায়িকার চরিত্র লারার একদম বিপরীত। এটা একটা উদাহরণ। এরকম প্রচুর মুভি বা নাটক আছে, যেখানে নায়কের যৌন আকর্ষণ একজনের প্রতি আর সত্যিকারের ভালোবাসা আরেকজনের প্রতি। এমনকি বাস্তবের নায়কদেরকেও এমনটা করতে দেখা যায়–অমুকের সাথে প্রেম বা টাইমপাস করা যায়, বিয়ে করা যায় না।
বিষয়টি কিছু আবশ্যিক প্রশ্নের জন্ম দেয়–
পুরুষের চোখে নারী কি কেবল মোটাদাগে দুই রকম? একদলকে তারা দেখে শুধু যৌনতার দৃষ্টিকোণ থেকে, আর অন্যদল সিরিয়াস ভালোবাসার জন্য? এই দুই শ্রেণির মধ্যে পার্থক্যটা আসলে কোথায়?
আধুনিক ইনফ্লুয়েন্সার, সিনেমা বা টিভি শো-গুলোতে আমরা প্রায়ই দুই ধরনের নারীর চিত্রায়ন দেখি–একদল ওয়াইফ ম্যাটেরিয়াল, আর অন্যদল কেবল ‘সাইড-চিক’। আর পুরুষ এই দুই ধরনের নারীকেই চায়। পুরুষের এই দ্বিচারিতা ও স্ববিরোধিতাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে ‘ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স’ (Madonna-Whore Complex) হিসেবে। এই ম্যাডোনা বলতে মাতা মেরিকে বোঝানো হয়েছে, যাকে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স ধারণাটি প্রথম নামকরণ ও সংজ্ঞায়িত করেছিলেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ, তাত্ত্বিক এবং মনোবিশ্লেষণের জনক সিগমুন্ড ফ্রয়েড। পুরুষদের যৌন জীবনে এই জটিলতা কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফ্রয়েড বলেছিলেন, “যাদেরকে পুরুষরা ভালোবাসে, তাদের প্রতি কোনো যৌনতা থাকে না, আর যাদের প্রতি থাকে, তাদেরকে তারা ভালোবাসতে পারে না।”
সোজা কথায়, নারী হয় তাদের কাছে ‘ম্যাডোনা’ বা পবিত্রতার প্রতীক, নয়তো ‘হোর’ বা যৌন আকর্ষণ।
ফ্রয়েডের তত্ত্ব অনুযায়ী, যে পুরুষরা এই কমপ্লেক্সে ভোগে, তারা নিজেদের সঙ্গীর প্রতি দীর্ঘমেয়াদে যৌন আকাঙ্ক্ষা ধরে রাখতে পারে না। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তারা সঙ্গীর প্রতি রোমান্টিক ভালোবাসা এবং মায়ের প্রতি তাদের ভক্তি বা ভালোবাসার অনুভূতির মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পুরুষ তার তথাকথিত ওয়াইফ ম্যাটেরিয়ালের সাথে কোনো এক ‘সাইড চিকের’ জন্য প্রতারণা করে।
এই মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার কারণে অনেক পুরুষ একই নারীর প্রতি শ্রদ্ধা এবং শারীরিক আকর্ষণ–উভয়ই একসাথে অনুভব করতে পারে না। নয়নার মতো ম্যাডোনা ইমেজ যাদের, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থাকলেও অনেক পুরুষ অবচেতনভাবে তাদের যৌন আকাঙ্ক্ষার বাইরে রাখার চেষ্টা করে। অন্যদিকে, লারার মতো চরিত্রগুলোকে তারা কেবল উপভোগের বস্তু হিসেবে দেখে, যাদের প্রতি কোনো মানসিক দায়বদ্ধতা বা সম্মান থাকে না।
ফ্রয়েডের মৃত্যুর এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই ধারণাটি আজও সমাজে বিভিন্নভাবে টিকে আছে। আধুনিক মনস্তত্ত্বে এটিকে আর ফ্রয়েডের সেই সনাতন ‘ইডিপাস কমপ্লেক্স’ বা শৈশবের মায়ের প্রতি ভক্তির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত করা হয় না। বরং বর্তমানে এটি মূলত পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর যৌনতাকে নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম এবং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের অভাব, যা একজন মানুষকে সামগ্রিকভাবে (ভালোবাসা ও যৌনতাসহ) গ্রহণ করতে বাধা দেয়।
সহজ কথায়, এটি কেবল একটি মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা নয়, বরং এটি একটি গভীর সামাজিক কুসংস্কার, যা সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্সের উৎপত্তি সম্পর্কে আরেকটি তত্ত্ব ইহুদি-খ্রিষ্টান ধর্মতত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে নারীদের দুটি পৃথক শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়–হয় পবিত্র ‘দেবদূত’, নতুবা উচ্ছৃঙ্খল ‘পতিতা’। এটি এমন এক সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে, যেখানে কোনো নারীকে সতী বা ম্যাডোনা হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তাকে গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করা হয় এবং প্রশংসা করা হয়। অন্যদিকে নারীরা যদি যৌনভাবে স্বাধীন হয়, তবে তারা পতিতার ক্যাটাগরিতে পড়ে। আর তাদের যৌনতা যখন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তখন তাদের কঠোর নিন্দা, দোষারোপ এমনকি শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
নারীবাদী তত্ত্ব অনুযায়ী, ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্সের মূলে রয়েছে প্রবল নারীবিদ্বেষ বা মিসোজিনি। এটি মূলত পিতৃতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণাকেই জোরালো করে এবং নারীদের শরীর ও তাদের যৌনতাকে নিয়ন্ত্রণের একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

এই দেবাসুরের প্রকল্প চলতেই থাকে। মজার বিষয় হচ্ছে, পুরুষের ক্ষেত্রে অপছন্দনীয় চরিত্রকে অসুর বা শয়তান হিসেবে চিত্রায়নের প্রবণতা ও চর্চা থাকলেও নারীর ক্ষেত্রে এই মার্গে যাওয়ার প্রবণতাও নেই। নারীকে শুধু ‘পতিতা’ শব্দের বৃত্তে বন্দী করার চলই চলছে। বুঝিয়ে বলা যাক। শয়তান বা অসুর–একই সঙ্গে দেবকুলের বিরুদ্ধে লড়বার মতো ক্ষমতাধর। অর্থাৎ, এ দুই শব্দের সঙ্গে শক্তি বা ক্ষমতার এক গভীর সম্পর্ক আছে–হোক তা নেতিবাচক। আর নারীর ক্ষেত্রে তুলে আনা হয়, সেই শব্দ যা তাকে শক্তি বা ক্ষমতার বিকল্প উৎসের বদলে একটা বৃত্তবন্দী করতে কাজে লাগে।
ইংরেজি ‘হোর’ শব্দের আদি উৎসের দিকে তাকালে কিছুটা বোঝা যায়। ১১৫০ সালের দিকে এর প্রথম প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমান বানানের আকার পেতে সময় লেগেছিল আরও প্রায় ৩০০–৩৫০ বছর। আর এর অন্যতম একটি অর্থ হচ্ছে–‘সেই ব্যক্তি, যার আকাঙ্ক্ষা আছে’। অর্থাৎ, স্বাধীন আকাঙ্ক্ষার প্রকাশকের ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগ ছিল। এখনো কি তা নয়?
আমরা পুরুষের আকর্ষণ ও ভালোবাসার বিভিন্নতার তরফ থেকে যেমন এই জটিল মনোভঙ্গির প্রকাশ দেখি, তেমনি স্বাধীন নারী সত্তার ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ দেখি। বিশেষত, যে নারীরা সমাজে একলা বাঁচার সাহস দেখায়, নিজ অধিকার নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হয়, তাদের ক্ষেত্রে হরেদরে চরিত্রহননের উপায় হিসেবে ‘হোর’ ধারণা ও তার বাংলা প্রতিশব্দের ব্যাপক প্রয়োগ দেখা যায়। বিপরীতে দাঁড় করানো হয় পবিত্রতার নানা প্রতীকগুচ্ছকে, যার ভারতীয় উপমহাদেশীয় সংস্করণ হিসেবে অতি অবশ্যই সামনে আসে ‘সতীত্ব’ ধারণা। ফলে সমাজে ক্রমে বিস্তার পাওয়া নারীবিদ্বেষের কেন্দ্রে এই ‘ম্যাডোনা অ্যান্ড হোর কমপ্লেক্স’ ক্রিয়াশীল বললে অত্যুক্তি হয় কি?
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন-
ফ্রয়েডের এই তত্ত্বের প্রাসঙ্গিকতার জন্য এখনো এই তত্ত্ব নিয়ে কাজ হচ্ছে। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত অ্যান ইভোলিউশনারি এক্সপ্লানেশন অব দ্য ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স নিবন্ধে বলা হয়েছে, ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স নারীর স্বাভাবিক যৌনতাকে অস্বীকার করলেও গবেষকদের মতে এটি কোনো মানসিক ত্রুটি নয়। বরং বিবর্তনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হতে পারে। সাম্প্রতিক এক তত্ত্বে দাবি করা হয়েছে যে, এই মানসিকতার মূলে রয়েছে পুরুষের ‘পিতৃত্বের অনিশ্চয়তা’ (Paternal uncertainty)।
বিবর্তনীয় এই অনিশ্চয়তার কারণেই পুরুষরা মূলত দুটি ভিন্ন যৌন কৌশলের আশ্রয় নেয়: স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি। এই বায়োলজিক্যাল বা জৈবিক ভিত্তিটি বুঝতে পারলে ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্সকে যৌন দ্বন্দ্বের (Sexual conflict) একটি বিবর্তনীয় কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
সেক্সোলজিস্ট এবং এমব্রেস সেক্সুয়াল ওয়েলনেসের প্রতিষ্ঠাতা ডক্টর জেনিফার লিটনারের মতে, ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্সের প্রভাব নারী মনস্তত্ত্বে অত্যন্ত গভীর হতে পারে। তিনি বলেন,“কিছু বিষমকামী নারী পুরুষদের কাছে কাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠার জন্য নিজেদের একটি নির্দিষ্ট ধাঁচে উপস্থাপনের চাপ অনুভব করতে পারে। এ ছাড়া ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্সের কারণে নারীরা তাদের যৌন সক্রিয়তা বা যৌন অভিব্যক্তির ওপর ভিত্তি করে এক ধরনের তীব্র যৌন হীনম্মন্যতা বা লজ্জাবোধও করতে পারে।”
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রকাশিত এক নিবন্ধ অনু্যায়ী, ১০৮ জন বিষমকামী ইসরায়েলি পুরুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ম্যাডোনা-হোর ডাইকোটমি বজায় রাখার সাথে পুরুষতান্ত্রিক আদর্শের একটি ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, বিদ্যমান লিঙ্গীয় ব্যবস্থার যৌক্তিকতা প্রমাণ এবং যৌনতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির (যেমন— নারীদের যৌন পণ্য হিসেবে দেখা এবং যৌনতায় দ্বিমুখী মানদণ্ড) প্রভাব স্পষ্ট। এ ছাড়া গবেষণায় এটিও উঠে এসেছে যে, এই ধরনের মানসিকতা পুরুষদের নিজস্ব রোমান্টিক সম্পর্কের তৃপ্তি কমিয়ে দেয়। এই ফলাফলগুলো নারীবাদী সেই ধারণাকেই সমর্থন করে যে, পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো কেবল নারীদের নয়, বরং পুরুষদের কল্যাণের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ম্যাডোনা-হোর ডাইকোটমি কেবল নারীদের স্বায়ত্তশাসনকে খর্ব করে না, বরং নারীদের সাথে পুরুষদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এখন প্রশ্ন হলো নারীবিদ্বেষ নারীর ওপর কী প্রভাব ফেলে?
মিসোজিনি একজন নারীর ওপর সামগ্রিকভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলে। লিঙ্গবৈষম্য ও নারীবিদ্বেষের কারণে নারীরা যে ধরনের ক্ষতিকর পরিস্থিতির শিকার হয়, তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষার সুযোগ কমে যাওয়া, একই কর্মক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় কম বেতন পাওয়া, মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার উচ্চ ঝুঁকি, পারিবারিক নির্যাতন ও সঙ্গীর সহিংসতা, যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া এবং পুরুষদের তুলনায় সন্তান লালন-পালনের অতিরিক্ত চাপের কারণে বেড়ে যাওয়া মানসিক চাপ।
নারীবিদ্বেষী ‘ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স’-এর কারণে নারীরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, যার একটি প্রকট উদাহরণ হলো ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীকে দোষারোপ করা। ম্যাডোনা-হোর কমপ্লেক্স অনুযায়ী, ধর্ষণের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে ভুক্তভোগী নারীর ওপর চাপানো হয়। এই ভ্রান্ত ধারণার দাবি হলো–নারীটি হয়তো কোনোভাবে পুরুষটিকে প্রলুব্ধ করেছিল (যেমন- ফ্লার্টিং বা ‘আপত্তিকর’ পোশাক পরা) এবং এর ফলে পুরুষটি নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। তারা মনে করে, নারীটি যেহেতু ‘পতিতা’ (whore) ক্যাটাগরির, তাই তাকে যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ করার অনুমতি তাদের রয়েছে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি কেবল নারীদের মানসিকভাবেই আঘাত করে না, বরং পুরুষদের দায়মুক্তি দেয়। এর মাধ্যমে পুরুষদের এমনভাবে চিত্রিত করা হয়, যেন তারা কেবল যৌনতাচালিত পশু, যারা তাদের আদিম প্রবৃত্তির কাছে দাস এবং যৌন পরিস্থিতিতে নিজেদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না। এ ছাড়া এই কমপ্লেক্সের কারণে ভুক্তভোগী নারীকে বারবার প্রমাণ করতে হয় যে, তিনি আক্রমণের যোগ্য ছিলেন না। এর পরিবর্তে সমাজ যদি ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের শেখাত যে, সব নারীকে মানুষ হিসেবে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা জরুরি, এবং তাদের পোশাক, দেহ বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া যৌনতার আমন্ত্রণ হিসেবে দেখাটা ভুল, তবেই এই মানসিকতার পরিবর্তন সম্ভব।