ফজলে রাব্বি

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বাজারগুলোয় বেড়েছে মাছ, মাংস ও মসলার দাম। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে ভোজ্যতেল। অনেকে দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ কম থাকার দোহাই দিয়ে বেড়েছে দাম।
গত বছরের রমজানের তুলনায় অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে, আর মাসখানেক আগের দামের তুলনায়ও বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।
ঈদের আগের দিন শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শুক্রাবাদ ও মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানকে ঘিরে চাহিদা বৃদ্ধি, সরবরাহে সীমাবদ্ধতা এবং আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে ডলারের প্রভাব—এই তিন কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাস্তব বাজারদরের বড় ব্যবধান বাজার তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
শুক্রবার বৃষ্টির মধ্যেও বাজারে ভিড় দেখা গেছে। শুক্রাবাদ বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা কেজি দরে। অথচ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নির্ধারিত দর অনুযায়ী গরুর মাংসের খুচরা দাম ৭৮০-৮০০ টাকা।
বাড়তি দাম নিয়ে প্রশ্ন করে হলে দোকানি মন্তব্য করার আগেই একজন তরুণ ক্রেতা ইফতি আলম বলেন, “ভাগ্যিস ৮৫০ টাকায় থামছে। কাল বনানী বাজারে এক হাজার টাকা দেখছি।” অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে গরুর মাংস কেজিতে ৭০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রোজার আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়েছে।

মোহাম্মদপুর বাজারের একজন ক্রেতা বলেন, “গত মাসেও ৭৫০ টাকায় মাংস কিনেছি, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি দিতে হচ্ছে। সংসারের খরচের সঙ্গে গরু-খাসি যোগ করা বাদশাহী বিলাসিতার মতো লাগে। সংসার সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।” গত বছরের রোজায় গরুর মাংস ছিল ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা।
খাসির মাংস এখন ১৩৫০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। রোজার আগে এর দাম ছিল প্রায় ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকা।
মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি। ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। রোজার আগে এর দাম ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকায়। সরকার নির্ধারিত দাম ৩৫০-৩৬০ টাকা।
ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতার দেখা দিচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগে খোলা তেল ২১৫ থেকে ২২০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারণ করেছে ১৮৫- ১৮৬ টাকার মধ্যে। সে হিসেবে লিটারে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
রোজার আগে খোলা তেলের দাম ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। গত বছরের রমজানেও ভোজ্যতেল নিয়ে বাজারে অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এবছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
মাছের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও কিছু প্রজাতির দাম বেড়েছে। রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর তেলাপিয়া/নাইলোটিকা মাছের প্রতি কেজির খুচরা দর ঠিক করেছে, ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। রোজার আগে এসব মাছের দাম গড়ে ১০ থেকে ২০ টাকা কম ছিল। গত বছরের তুলনায় এসব মাছের দাম কিছুটা বেশি।
টেংরা মাছের দাম বেড়ে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা রোজার আগে ছিল ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে। গলদা চিংড়ি এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে মসলার বাজারে। এলাচ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি। গত বছরের রমজানেও এলাচের বাজারে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছিল। আমদানিনির্ভর এই পণ্যটির সরবরাহ ও দামের ওঠানামা তখনো আলোচনায় ছিল।
এছাড়া জিরা ৮৫০ থেকে ১১০০ টাকা, দারুচিনি ৫৮০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং লবঙ্গ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রোজার আগে এসব মসলার দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা কম ছিল।
কারওয়ান বাজারের এক মসলা বিক্রেতা বলেন, “ডলার রেট বাড়া আর আমদানির খরচ বেশি হওয়ায় মসলার দাম কমানো যাচ্ছে না। রমজানে চাহিদা বাড়লে চাপটা আরও বোঝা যায়।”
শুকনো ফলের বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে। কিশমিশ প্রতি কেজি এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা, কাজুবাদাম ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা, কাঠবাদাম ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং পেস্তা চার হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রোজার আগে এসব পণ্যের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা কম ছিল।
বর্তমানে চিনি ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী যা ১০০ থেকে ১০৫ টাকা হওয়ার কথা। রোজার আগে এর দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা।
অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রোজার আগে পেঁয়াজ ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সে হিসেবে এসব পণ্যের দাম কমেছে।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত দামের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বাজারগুলোয় বেড়েছে মাছ, মাংস ও মসলার দাম। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে ভোজ্যতেল। অনেকে দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ কম থাকার দোহাই দিয়ে বেড়েছে দাম।
গত বছরের রমজানের তুলনায় অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে, আর মাসখানেক আগের দামের তুলনায়ও বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।
ঈদের আগের দিন শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শুক্রাবাদ ও মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানকে ঘিরে চাহিদা বৃদ্ধি, সরবরাহে সীমাবদ্ধতা এবং আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে ডলারের প্রভাব—এই তিন কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাস্তব বাজারদরের বড় ব্যবধান বাজার তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
শুক্রবার বৃষ্টির মধ্যেও বাজারে ভিড় দেখা গেছে। শুক্রাবাদ বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা কেজি দরে। অথচ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নির্ধারিত দর অনুযায়ী গরুর মাংসের খুচরা দাম ৭৮০-৮০০ টাকা।
বাড়তি দাম নিয়ে প্রশ্ন করে হলে দোকানি মন্তব্য করার আগেই একজন তরুণ ক্রেতা ইফতি আলম বলেন, “ভাগ্যিস ৮৫০ টাকায় থামছে। কাল বনানী বাজারে এক হাজার টাকা দেখছি।” অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে গরুর মাংস কেজিতে ৭০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রোজার আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়েছে।

মোহাম্মদপুর বাজারের একজন ক্রেতা বলেন, “গত মাসেও ৭৫০ টাকায় মাংস কিনেছি, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি দিতে হচ্ছে। সংসারের খরচের সঙ্গে গরু-খাসি যোগ করা বাদশাহী বিলাসিতার মতো লাগে। সংসার সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।” গত বছরের রোজায় গরুর মাংস ছিল ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা।
খাসির মাংস এখন ১৩৫০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। রোজার আগে এর দাম ছিল প্রায় ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকা।
মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি। ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। রোজার আগে এর দাম ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকায়। সরকার নির্ধারিত দাম ৩৫০-৩৬০ টাকা।
ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতার দেখা দিচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগে খোলা তেল ২১৫ থেকে ২২০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারণ করেছে ১৮৫- ১৮৬ টাকার মধ্যে। সে হিসেবে লিটারে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
রোজার আগে খোলা তেলের দাম ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। গত বছরের রমজানেও ভোজ্যতেল নিয়ে বাজারে অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এবছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
মাছের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও কিছু প্রজাতির দাম বেড়েছে। রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর তেলাপিয়া/নাইলোটিকা মাছের প্রতি কেজির খুচরা দর ঠিক করেছে, ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। রোজার আগে এসব মাছের দাম গড়ে ১০ থেকে ২০ টাকা কম ছিল। গত বছরের তুলনায় এসব মাছের দাম কিছুটা বেশি।
টেংরা মাছের দাম বেড়ে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা রোজার আগে ছিল ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে। গলদা চিংড়ি এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে মসলার বাজারে। এলাচ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি। গত বছরের রমজানেও এলাচের বাজারে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছিল। আমদানিনির্ভর এই পণ্যটির সরবরাহ ও দামের ওঠানামা তখনো আলোচনায় ছিল।
এছাড়া জিরা ৮৫০ থেকে ১১০০ টাকা, দারুচিনি ৫৮০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং লবঙ্গ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রোজার আগে এসব মসলার দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা কম ছিল।
কারওয়ান বাজারের এক মসলা বিক্রেতা বলেন, “ডলার রেট বাড়া আর আমদানির খরচ বেশি হওয়ায় মসলার দাম কমানো যাচ্ছে না। রমজানে চাহিদা বাড়লে চাপটা আরও বোঝা যায়।”
শুকনো ফলের বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে। কিশমিশ প্রতি কেজি এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা, কাজুবাদাম ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা, কাঠবাদাম ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং পেস্তা চার হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রোজার আগে এসব পণ্যের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা কম ছিল।
বর্তমানে চিনি ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী যা ১০০ থেকে ১০৫ টাকা হওয়ার কথা। রোজার আগে এর দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা।
অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রোজার আগে পেঁয়াজ ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সে হিসেবে এসব পণ্যের দাম কমেছে।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত দামের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।