Advertisement Banner

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
ছবি: চরচা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনের ১৮ দিনে এসে আগামীকাল সোমবার থেকে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও শিক্ষক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হলো। এর প্রভাবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে সেশনজটের শঙ্কা বেড়েছে।

আজ রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জটিলতা সমাধানে ৩০ এপ্রিল ববিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে চলমান সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষকদের। এরপর শিক্ষকরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে শুধুমাত্র পাঠদানে ফিরেছিল। কারণ আমাদের বলা হয়েছিল, শুক্রবারের (৮ মে) ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় আমাদের পদোন্নতির বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান হবে। কিন্তু ববি উপাচার্য নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সংকট সমাধানের চেষ্টা করেননি। তাছাড়া অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদসস্যের মতামতকে অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে ববিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।”

তাই আন্দোলনরত শিক্ষকরা আজ সভা করে ববি শাটডাউনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কাজ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়। এরই অংশ হিসেবে ববি প্রক্টর পদোন্নতি প্রত্যাশী সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল ও সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার পদত্যাগ করেন।

অপরদিকে ববির একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় সকল বিভাগে ফাইনাল, মিডটার্ম, ক্লাস টেস্ট এবং ক্লাস চলছে। এভাবে দিনের পর দিন ক্যাম্পাস অচল থাকলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিষয়ক সংকট আরও বাড়বে। তাই দ্রুত এ সংকট সমাধানের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষকদের অন্দোলনের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, “আমরা শিক্ষকরা দীর্ঘদিন চেষ্টার পরও সমাধান পাইনি। সর্বশেষ সিন্ডিকেটেও বিষয়টি মীমাংসিত না হওয়ায় শিক্ষকরা আবারো কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছি। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।”

প্রক্টর থেকে পদত্যাগের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, “সংকট সমাধানে উপাচার্য আমাদের ন্যায্য দাবি উপক্ষো করায় সহকর্মী শিক্ষক-কর্মকর্তারা হতাশ। চলমান সংকট সমাধানসহ সার্বিক বিষয়ে উপাচার্যকে একাধিকবার অনুরোধের পরও তা কোনো কাজে আসেনি। তাই পদত্যাগ করেছি।”

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধিসহ সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষকরা আবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। আমরা বিধি অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিক।”

দুই শিক্ষকের পদত্যাগের ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, “আমার কাছে এখনো পদত্যাগের কোনো চিঠি আসেনি। তারা অব্যাহতি দেবে–তা আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন।”

সম্পর্কিত