Advertisement Banner

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
ছবি: উইকিপিডিয়া

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে মোট ৪৩ বস্তা নগদ টাকা এবং সোনাসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া গেছে। আজ শনিবার সকালে ছয় মাস পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে এবং বর্তমানে গণনার কাজ চলছে।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরবর্তী হারুয়া এলাকায় অবস্থিত মসজিটির ১৩টি লোহার দানবাক্স শনিবার সকাল ৭টার দিকে খোলা হয়।

গণনাকাজে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পাশের জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ অংশ নিচ্ছেন।

সাধারণত প্রতি তিন মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার রমজান ও জাতীয় নির্বাচন থাকায় ছয় মাস পর তা খোলা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর সর্বশেষ দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন দানবাক্স থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

পরে ওই অর্থ রূপালী ব্যাংকে পাগলা মসজিদের হিসাবে জমা করা হয়। একই সময়ে পাওয়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা সিলগালা করে জেলা ট্রেজারিতে জমা রাখা হয়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সোহানা নাসরিন জানান, ১০টি স্থায়ী সিন্দুক ও তিনটি অস্থায়ী ট্রাঙ্ক নিয়ে গঠিত দানবাক্সগুলো সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো খোলা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে পাগলা মসজিদের মোট তহবিলের পরিমাণ ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অনুদান পাঠানো যায়।

ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণও চালু হয়েছে এবং এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা অনুদান এসেছে।

তিনি বলেন, একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মসজিদের নামে পাশের ৫৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে।

নতুন কমপ্লেক্সের নকশা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরে একটি গণশৌচাগারও নির্মাণ করা হচ্ছে।

মসজিদের তহবিল থেকে মাদ্রাসার ১৩০ জন এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীর ব্যয়, ৩৫ জন কর্মচারী ও ১০ জন আনসার সদস্যের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ ইউটিলিটি বিল এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।

এ ছাড়া, তহবিলের মুনাফার একটি অংশ জেলার দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় ব্যয় করা হয় বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, বিশাল এই গণনাকাজে জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী, পাগলা মসজিদ মাদ্রাসার ১০৬ জন শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, মসজিদের ৩৫ জন কর্মচারী এবং জেলা প্রশাসনের ১৯ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের একটি উপকমিটি দানবাক্স খোলা ও অর্থ গণনার কার্যক্রম তদারকি করছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, র‌্যাবের ৮ সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সারাদিন দায়িত্ব পালন করবেন।

সম্পর্কিত