দেশে এক বছরে ৫৬৯ ধর্ষণ, হত্যার শিকার ৬৩২ নারী: মহিলা পরিষদ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
দেশে এক বছরে ৫৬৯ ধর্ষণ, হত্যার শিকার ৬৩২ নারী: মহিলা পরিষদ
ধর্ষণ প্রতীকী ছবি।

গত বছর সারা দেশে ৫৬৯টি নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং এ সময় হত্যা করা হয়েছে ৬৩২ জন নারীকে। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

আজ রোববার পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ২৮০৮ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১২৩৪ জন কন্যা শিশু এবং ১৫৭৪ জন নারী রয়েছেন।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে তৈরি করা এই প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, গত এক বছরে মোট ৭৮৬ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে কন্যা শিশুর সংখ্যা ৫৪৩ এবং নারী ২৪৩ জন। ১৭৯ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন (১০৪ জন কন্যা শিশু)। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩১ জনকে (১৮ জন কন্যা শিশু)। ১৮৮ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

এ সময় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ১৬৯ জন, যার মধ্যে ১১২ জনই কন্যা শিশু।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে মোট ৬৩২ জন নারী ও কন্যা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ২৩০ জনের। আত্মহত্যা করেছেন ১৯৬ জন এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার হয়েছেন ১৪ জন। হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে আরও ২১ জনকে।

মহিলা পরিষদের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তির অপব্যবহারে নারীরা এখনো অনিরাপদ। গত বছরে ১৯ জন সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ১৩৮ জন নারী ও কন্যা শিশু বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৭১ জন অপহৃত হয়েছেন এবং ৫৫ জন নারী ও কন্যা শিশু পাচারের শিকার হয়েছেন।

এ বছর যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫২ জন এবং যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়েছে ২৪ জনকে। ১৭ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮টি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৭টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই তথ্যগুলো দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, ইত্তেফাক, সমকাল এবং জনকণ্ঠের মতো প্রধান পত্রিকাগুলো।

সম্পর্কিত