বাহরাইনে মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় ‘লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার মানামায় দূতাবাসের হল রুমে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবী, বাহরাইনের বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার উপস্থিত সকলকে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বলেন, লালন ফকির ছিলেন একধারে বাউল, সাধক ও শিল্পী।
তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি শুধু বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির অংশ নন বরং ২০০৫ সালে ইউনেকো কর্তৃক লালন ফকির ও তার দর্শনে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ঐহিত্যবাহী বাউল গান ও বাউল সংস্কৃতিকে ‘বিশ্ব মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করায় তা আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার, গবেষণা ও শিক্ষালাভের জন্য লালনের দর্শন ও অবদানকে স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার প্রথমবারের মতো লালন সাঁই তিরোধান দিবস-২০২৬ কে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
ছবি: বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসের সৌজন্যে
এর ফলে বাংলাদেশের লোকগীতি, লোক সঙ্গীত এবং লোক সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করবে। সাঁইজির এই অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্যবাদের দর্শন আমাদের চিত্ত ও মনকে প্রসারিত করবে বলে রাষ্ট্রদূত অবহিত করেন।
রাষ্ট্রদূত উপস্থিত অতিথিদেরকে এই তিরোধান দিবসে লালন সাঁইয়ের প্রেম, অহিংসা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে যার যার অবস্থান থেকে অবদান রাখার জন্য আহ্বান জানান।
ছবি: বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসের সৌজন্যে
আলোচনা পর্ব শেষে লালন সাঁইয়ের স্মরণে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অতিথিরা অত্যন্ত ধৈর্য্য সহকারে তা অবলোকন করেন।