ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দি
চরচা ডেস্ক

আওয়ামী লীগ শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ ইকবাল করিম এই জবানবন্দি দেন।
ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া প্রথম দিনের জবানবন্দির কিছু অংশ এখানে দেওয়া হলো–
স্বাধীনতার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হতো। সন্দেহভাজনদের সেনা ক্যাম্পে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সীমিত সংখ্যক মৃত্যু ঘটতো। পরে তদন্ত ও বিচার করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিযানে আরও মৃত্যু ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ সামাল দিতে সেনাবাহিনীকে বারবার ব্যবহার করাই ছিল বড় ভুল। কারণ সেনাদের প্রশিক্ষণই হত্যা-প্রবণতা জাগিয়ে তোলে।
তিনি বলেন, র্যাব গঠন ছিল ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ র্যাবের মতো আধা–সামরিক বাহিনীতে কাজ করার উপযোগী নয়। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত র্যাবের হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে; ক্লিন হার্ট অভিযানের সময়ও বহু মানুষ নিহত হয়। ইনডেমনিটি ছিল ‘হত্যার লাইসেন্স’-এ মন্তব্যও করেন তিনি।
২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার পর ডিজিএফআই হয়ে ওঠে দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। রাজনৈতিক নেতাদের আটক, জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন তখন নিয়মে পরিণত হয়। তার ভাষায়, অপরাধীরা মনে করতে শুরু করল-যাই করি, পার পেয়ে যাব। বিদ্রোহ-পরবর্তী সময়ে বিডিআর সদস্যদের নির্যাতনে ৫০ জনের মৃত্যু হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর পর সেনাবাহিনীর ভেতরে বিভাজন, আধিপত্য, দুর্নীতি, নগদ লেনদেন ও অন্ধ আনুগত্যের সংস্কৃতি বাড়তে থাকে।
ইকবাল করিম অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহম্মেদ সিদ্দিকি চারটি শক্তিশালী চক্র-অপরাধ, ডিপ স্টেট, কেনাকাটা ও সামরিক প্রকৌশলী চক্র-এর মাধ্যমে সেনাবাহিনী, ডিজিএফআই, র্যাব, এনএসআইসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তাঁর দাবি, এই চক্রগুলোর প্রভাবে খুন–গুম ও দমন-পীড়ন সাংগঠনিক রূপ পায়।
র্যাবের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে তিনি নিজে উদ্যোগ নিলেও তাতে ব্যর্থ হন। র্যাবের এডিজি জিয়াউল আহসানকে ‘অবাধ্য ও নিয়ন্ত্রণহীন’ উল্লেখ করে তিনি জানান, সেনানিবাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করলেও প্রধানমন্ত্রীর চাপের মুখে শেষপর্যন্ত সিদ্ধান্ত তুলতে হয়। র্যাবে যোগ দেওয়া সেনা কর্মকর্তারা ‘পেশাদার খুনি’ হয়ে ফিরে আসছিলেন-এ মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ ইকবাল করিম এই জবানবন্দি দেন।
ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া প্রথম দিনের জবানবন্দির কিছু অংশ এখানে দেওয়া হলো–
স্বাধীনতার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হতো। সন্দেহভাজনদের সেনা ক্যাম্পে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সীমিত সংখ্যক মৃত্যু ঘটতো। পরে তদন্ত ও বিচার করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিযানে আরও মৃত্যু ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ সামাল দিতে সেনাবাহিনীকে বারবার ব্যবহার করাই ছিল বড় ভুল। কারণ সেনাদের প্রশিক্ষণই হত্যা-প্রবণতা জাগিয়ে তোলে।
তিনি বলেন, র্যাব গঠন ছিল ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ র্যাবের মতো আধা–সামরিক বাহিনীতে কাজ করার উপযোগী নয়। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত র্যাবের হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে; ক্লিন হার্ট অভিযানের সময়ও বহু মানুষ নিহত হয়। ইনডেমনিটি ছিল ‘হত্যার লাইসেন্স’-এ মন্তব্যও করেন তিনি।
২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার পর ডিজিএফআই হয়ে ওঠে দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। রাজনৈতিক নেতাদের আটক, জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন তখন নিয়মে পরিণত হয়। তার ভাষায়, অপরাধীরা মনে করতে শুরু করল-যাই করি, পার পেয়ে যাব। বিদ্রোহ-পরবর্তী সময়ে বিডিআর সদস্যদের নির্যাতনে ৫০ জনের মৃত্যু হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর পর সেনাবাহিনীর ভেতরে বিভাজন, আধিপত্য, দুর্নীতি, নগদ লেনদেন ও অন্ধ আনুগত্যের সংস্কৃতি বাড়তে থাকে।
ইকবাল করিম অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহম্মেদ সিদ্দিকি চারটি শক্তিশালী চক্র-অপরাধ, ডিপ স্টেট, কেনাকাটা ও সামরিক প্রকৌশলী চক্র-এর মাধ্যমে সেনাবাহিনী, ডিজিএফআই, র্যাব, এনএসআইসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তাঁর দাবি, এই চক্রগুলোর প্রভাবে খুন–গুম ও দমন-পীড়ন সাংগঠনিক রূপ পায়।
র্যাবের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে তিনি নিজে উদ্যোগ নিলেও তাতে ব্যর্থ হন। র্যাবের এডিজি জিয়াউল আহসানকে ‘অবাধ্য ও নিয়ন্ত্রণহীন’ উল্লেখ করে তিনি জানান, সেনানিবাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করলেও প্রধানমন্ত্রীর চাপের মুখে শেষপর্যন্ত সিদ্ধান্ত তুলতে হয়। র্যাবে যোগ দেওয়া সেনা কর্মকর্তারা ‘পেশাদার খুনি’ হয়ে ফিরে আসছিলেন-এ মন্তব্য করেন তিনি।