চরচা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে ধনকুবের বা ধনীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে না কমছে? আন্তর্জাতিক আবাসন বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্রাঙ্কের ২০২৬ সালের ওয়েলথ রিপোর্ট বলছে, গত পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে অর্থ উপার্জনের গতি ছিল রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। আর এই দৌড়ে সবাইকে টেক্কা দিয়ে আগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যার ঠিক পরেই রয়েছে চীন ও ভারত।
প্রতিদিন কতজন মানুষ কোটিপতি (৩ কোটি ডলারের মালিক) হচ্ছেন? ওয়েলথ রিপোর্টের তথ্য বলছে, ২০২১ থেকে চলতি বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে আলট্রা হাই নেট ওর্থ ইন্ডিভিজ্যুয়াল অর্থাৎ অতি-উচ্চ ধনী বা ইউএইচএনডব্লিউআই (যাদের নিট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি মার্কিন ডলার বা তার বেশি) মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৫১ হাজার ৪৩৫ থেকে লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৬২৬ জনে।
অর্থাৎ, মাত্র পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে ১ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ জন নতুন অতি-উচ্চ ধনী তৈরি হয়েছে। আরও সহজভাবে বললে, গত পাঁচ বছর ধরে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রতিদিন গড়ে ৮৯ জন মানুষ নতুন করে ৩ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন।
বিশ্বের মোট সম্পদের গল্পটা মূলত তিনটি বড় অঞ্চলকে ঘিরে। এর মধ্যে সবার ওপরে আছে উত্তর আমেরিকা। ২০২৬ সালের হিসাবে, বিশ্বের মোট অতি-উচ্চ ধনীদের ৩৭% এই অঞ্চেরই বাসিন্দা। ২০৩১ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৪৩% হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বৈশ্বিক সম্পদ বাড়ার বাজারে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে যত নতুন অতি-উচ্চ ধনী তৈরি হয়েছেন, তার ৪১ শতাংশই দেশটির। এটি মূলত মার্কিন অর্থনীতির বিশাল আকার এবং পুঁজি তৈরির একচ্ছত্র ক্ষমতাকেই প্রমাণ করে। এর ফলে, বিশ্ব বাজারে মার্কিন ধনীদের অংশীদারত্ব ২০২১ সালের ৩৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট অতি-উচ্চ ধনীদের ৪১ শতাংশই থাকবে এই এক দেশে।
চীন ও বাকি বিশ্বের কী অবস্থা
টাকা তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ খুঁটি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে চীন। তবে বিশ্ব বাজারে তাদের ভাগ কিছুটা কমেছে। ২০২১ সালে বিশ্বের মোট অতি-উচ্চ ধনীদের ১৮ শতাংশ ছিল চীনে, যা ২০২৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ শতাংশে। ২০৩১ সালের মধ্যে তা আরও কমে ১৫ শতাংশে নামতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের এই লাগামহীন অগ্রযাত্রার সামনে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশই বৈশ্বিক বাজারে তাদের অংশীদারত্ব বা শেয়ার হারাচ্ছে।
ভারতের চিত্র কেমন
এই পুরো পরিস্থিতির মধ্যে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছে ভারত। যদিও ২০২৬ সালের হিসাবে বিশ্বের মোট অতি-উচ্চ ধনীদের মাত্র ২.৮ শতাংশ ভারতে আছেন (যা পাঁচ বছর আগের ২ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি), তবুও তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গ্রাফটি কিন্তু সুস্পষ্টভাবে ওপরের দিকে উঠছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে অতি-উচ্চ ধনীর সংখ্যা যেখানে ১৯ হাজার ৮৭৭ জন, তা ২০৩১ সালের মধ্যে এক লাফে বেড়ে দাঁড়াবে ২৫ হাজার ২১৭ জনে।
এখন নিকট ভবিষ্যতে কেমন হতে যাচ্ছে বিশ্ব বাজার ও ধনীদের চিত্র? এই বিষয়ে প্রতিবেদনের মূল পর্যবেক্ষণগুলো আসলে কী কী?

কোন অঞ্চলে ধনীদের দাপট কেমন
বিশ্বের মোট সম্পদের গল্পটা মূলত তিনটি বড় অঞ্চলকে ঘিরে। এর মধ্যে সবার ওপরে আছে উত্তর আমেরিকা। ২০২৬ সালের হিসাবে, বিশ্বের মোট অতি-উচ্চ ধনীদের ৩৭% এই অঞ্চেরই বাসিন্দা। ২০৩১ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৪৩% হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের মোট বিলিয়নিয়ারদের ৪% এর বেশি থাকেন। আগামী দিনে শতকোটিপতি বাড়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে সৌদি আরব (১৮৩%)। এরপর রয়েছে পোল্যান্ড (১২৩%), সুইডেন (৮১%) এবং অস্ট্রেলিয়া (৭৭%)।
দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল। বিশ্বের প্রায় ৩১% অতি-উচ্চ ধনী এখানে থাকেন। আগামী পাঁচ বছরে এই অঞ্চলে ধনীর সংখ্যা ২ লাখ ১৯ হাজার ৩১০ থেকে বেড়ে ২ লাখ ৭২ হাজার ৫৩০ জন হবে। এর ঠিক পরেই আছে ইউরোপ। বিশ্বের মোট ধনীদের এক-চতুর্থাংশের (২৫%) বেশি এখানে থাকেন।
এই তিন অঞ্চলের বাইরে চমক দেখাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। বিশ্ব বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের ধনীদের ৩.১% ধনী রয়েছে এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত তারা এই অবস্থান ধরে রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিলিয়নিয়াররা এখন বিশ্বজুড়ে ছড়ানো
বিশ্বের ৩ হাজার ১১০ জন বিলিয়নিয়ার (যাদের সম্পদ ১০০ কোটি ডলার বা তার বেশি) এখন নির্দিষ্ট কোনো এক দেশের গণ্ডিতে আটকে নেই। তারা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছেন। এই তালিকায় উত্তর আমেরিকাকে (৯৬৫ জন) পেছনে ফেলে শীর্ষে আছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল (১ হাজার ১১৬ জন)।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের মোট বিলিয়নিয়ারদের ৪% এর বেশি থাকেন। আগামী দিনে শতকোটিপতি বাড়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে সৌদি আরব (১৮৩%)। এরপর রয়েছে পোল্যান্ড (১২৩%), সুইডেন (৮১%) এবং অস্ট্রেলিয়া (৭৭%)।
নতুন নতুন বাজারের উত্থান
আগামী পাঁচ বছরে ধনী বাড়ার ক্ষেত্রে চেনা বা পুরনো কোনো দেশ শীর্ষে নেই, বরং এগিয়ে আসছে দ্রুত বড় হতে থাকা নতুন নতুন দেশ। এই তালিকায় সবার ওপরে আছে ইন্দোনেশিয়া। ২০৩১ সালের মধ্যে দেশটিতে ধনীদের সংখ্যা রেকর্ড ৮২% বাড়বে। এর পরেই আছে সৌদি আরব ও পোল্যান্ড (উভয় দেশেই বর্তমানের চেয়ে ৬০%-এর বেশি বাড়বে)। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভিয়েতনামে ধনী বৃদ্ধির হার প্রায় ৬০%। ইউরোপের সুইডেন, রোমানিয়া এবং গ্রিসেও ধনীদের সংখ্যা বেশ ভালোই বাড়ছে।

অস্ট্রেলিয়ার দারুণ পারফরমেন্স
অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশের আকারের চেয়েও অর্থনৈতিকভাবে অনেক বড় চমক দেখাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশটির অতি-উচ্চ ধনীর সংখ্যা প্রায় ৬০% বেড়ে যাবে। এর অর্থ হলো, অস্ট্রেলিয়ার প্রতি ১ হাজার মানুষের মধ্যে একজনই হবেন খুব ধনী। শুধু খনিজ বা কৃষির ওপর ভর করে নয়, ফাইন্যান্স এবং নতুন প্রযুক্তি খাতের জোড়ে দেশটিতে এই সম্পদ তৈরি হচ্ছে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে সেখানে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ৭৭% বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র রাজত্ব
যুক্তরাষ্ট্র্রের অর্থনীতির আকার এত বিশাল যে, তার ধারেকাছে কেউ নেই। শতাংশের হিসাবে দেশটির ধনী বাড়ার গতি হয়তো নতুন দেশগুলোর চেয়ে কম মনে হতে পারে, কিন্তু সংখ্যার দিক থেকে তারা অনেক এগিয়ে। আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আরও ১ লাখ ৩৬ হাজার জন নতুন ধনী তৈরি হবেন, যা বিশ্বের অনেক অঞ্চলের মোট ধনীর চেয়েও বেশি। দেশটির শেয়ার বাজার, ব্যাংক-ফাইন্যান্স এবং বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির জোয়ারের কারণেই সেখানে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদ তৈরি হচ্ছে।
ভারতের শক্তিশালী অবস্থান
ভারতের সম্পদ বৃদ্ধির গল্পটি চমকপ্রদ। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতে ৩ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিকদের সংখ্যা ৬৩% বেড়েছিল (১২ হাজার থেকে প্রায় ২০ হাজার জন)। প্রযুক্তি, ব্যবসা এবং শেয়ার বাজারের অভাবনীয় উন্নতির কারণে এটি হয়েছে। এই বৃদ্ধির ধারা সামনেও বজায় থাকবে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে ভারতে অতি-উচ্চ ধনীর সংখ্যা আরও ২৭% বেড়ে ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ডিজিটাল বিপ্লব এবং পারিবারিক ব্যবসাগুলোর হাত ধরে ভারতের এই ধনী গোষ্ঠী এখন বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্রভাব ছড়াচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে ধনকুবের বা ধনীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে না কমছে? আন্তর্জাতিক আবাসন বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্রাঙ্কের ২০২৬ সালের ওয়েলথ রিপোর্ট বলছে, গত পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে অর্থ উপার্জনের গতি ছিল রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। আর এই দৌড়ে সবাইকে টেক্কা দিয়ে আগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যার ঠিক পরেই রয়েছে চীন ও ভারত।
প্রতিদিন কতজন মানুষ কোটিপতি (৩ কোটি ডলারের মালিক) হচ্ছেন? ওয়েলথ রিপোর্টের তথ্য বলছে, ২০২১ থেকে চলতি বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে আলট্রা হাই নেট ওর্থ ইন্ডিভিজ্যুয়াল অর্থাৎ অতি-উচ্চ ধনী বা ইউএইচএনডব্লিউআই (যাদের নিট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি মার্কিন ডলার বা তার বেশি) মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৫১ হাজার ৪৩৫ থেকে লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৬২৬ জনে।
অর্থাৎ, মাত্র পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে ১ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ জন নতুন অতি-উচ্চ ধনী তৈরি হয়েছে। আরও সহজভাবে বললে, গত পাঁচ বছর ধরে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রতিদিন গড়ে ৮৯ জন মানুষ নতুন করে ৩ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন।
বিশ্বের মোট সম্পদের গল্পটা মূলত তিনটি বড় অঞ্চলকে ঘিরে। এর মধ্যে সবার ওপরে আছে উত্তর আমেরিকা। ২০২৬ সালের হিসাবে, বিশ্বের মোট অতি-উচ্চ ধনীদের ৩৭% এই অঞ্চেরই বাসিন্দা। ২০৩১ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৪৩% হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বৈশ্বিক সম্পদ বাড়ার বাজারে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত পাঁচ বছরে বিশ্বজুড়ে যত নতুন অতি-উচ্চ ধনী তৈরি হয়েছেন, তার ৪১ শতাংশই দেশটির। এটি মূলত মার্কিন অর্থনীতির বিশাল আকার এবং পুঁজি তৈরির একচ্ছত্র ক্ষমতাকেই প্রমাণ করে। এর ফলে, বিশ্ব বাজারে মার্কিন ধনীদের অংশীদারত্ব ২০২১ সালের ৩৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট অতি-উচ্চ ধনীদের ৪১ শতাংশই থাকবে এই এক দেশে।
চীন ও বাকি বিশ্বের কী অবস্থা
টাকা তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ খুঁটি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে চীন। তবে বিশ্ব বাজারে তাদের ভাগ কিছুটা কমেছে। ২০২১ সালে বিশ্বের মোট অতি-উচ্চ ধনীদের ১৮ শতাংশ ছিল চীনে, যা ২০২৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ শতাংশে। ২০৩১ সালের মধ্যে তা আরও কমে ১৫ শতাংশে নামতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের এই লাগামহীন অগ্রযাত্রার সামনে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশই বৈশ্বিক বাজারে তাদের অংশীদারত্ব বা শেয়ার হারাচ্ছে।
ভারতের চিত্র কেমন
এই পুরো পরিস্থিতির মধ্যে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছে ভারত। যদিও ২০২৬ সালের হিসাবে বিশ্বের মোট অতি-উচ্চ ধনীদের মাত্র ২.৮ শতাংশ ভারতে আছেন (যা পাঁচ বছর আগের ২ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি), তবুও তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গ্রাফটি কিন্তু সুস্পষ্টভাবে ওপরের দিকে উঠছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে অতি-উচ্চ ধনীর সংখ্যা যেখানে ১৯ হাজার ৮৭৭ জন, তা ২০৩১ সালের মধ্যে এক লাফে বেড়ে দাঁড়াবে ২৫ হাজার ২১৭ জনে।
এখন নিকট ভবিষ্যতে কেমন হতে যাচ্ছে বিশ্ব বাজার ও ধনীদের চিত্র? এই বিষয়ে প্রতিবেদনের মূল পর্যবেক্ষণগুলো আসলে কী কী?

কোন অঞ্চলে ধনীদের দাপট কেমন
বিশ্বের মোট সম্পদের গল্পটা মূলত তিনটি বড় অঞ্চলকে ঘিরে। এর মধ্যে সবার ওপরে আছে উত্তর আমেরিকা। ২০২৬ সালের হিসাবে, বিশ্বের মোট অতি-উচ্চ ধনীদের ৩৭% এই অঞ্চেরই বাসিন্দা। ২০৩১ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৪৩% হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের মোট বিলিয়নিয়ারদের ৪% এর বেশি থাকেন। আগামী দিনে শতকোটিপতি বাড়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে সৌদি আরব (১৮৩%)। এরপর রয়েছে পোল্যান্ড (১২৩%), সুইডেন (৮১%) এবং অস্ট্রেলিয়া (৭৭%)।
দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল। বিশ্বের প্রায় ৩১% অতি-উচ্চ ধনী এখানে থাকেন। আগামী পাঁচ বছরে এই অঞ্চলে ধনীর সংখ্যা ২ লাখ ১৯ হাজার ৩১০ থেকে বেড়ে ২ লাখ ৭২ হাজার ৫৩০ জন হবে। এর ঠিক পরেই আছে ইউরোপ। বিশ্বের মোট ধনীদের এক-চতুর্থাংশের (২৫%) বেশি এখানে থাকেন।
এই তিন অঞ্চলের বাইরে চমক দেখাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। বিশ্ব বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের ধনীদের ৩.১% ধনী রয়েছে এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত তারা এই অবস্থান ধরে রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিলিয়নিয়াররা এখন বিশ্বজুড়ে ছড়ানো
বিশ্বের ৩ হাজার ১১০ জন বিলিয়নিয়ার (যাদের সম্পদ ১০০ কোটি ডলার বা তার বেশি) এখন নির্দিষ্ট কোনো এক দেশের গণ্ডিতে আটকে নেই। তারা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছেন। এই তালিকায় উত্তর আমেরিকাকে (৯৬৫ জন) পেছনে ফেলে শীর্ষে আছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল (১ হাজার ১১৬ জন)।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বের মোট বিলিয়নিয়ারদের ৪% এর বেশি থাকেন। আগামী দিনে শতকোটিপতি বাড়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে সৌদি আরব (১৮৩%)। এরপর রয়েছে পোল্যান্ড (১২৩%), সুইডেন (৮১%) এবং অস্ট্রেলিয়া (৭৭%)।
নতুন নতুন বাজারের উত্থান
আগামী পাঁচ বছরে ধনী বাড়ার ক্ষেত্রে চেনা বা পুরনো কোনো দেশ শীর্ষে নেই, বরং এগিয়ে আসছে দ্রুত বড় হতে থাকা নতুন নতুন দেশ। এই তালিকায় সবার ওপরে আছে ইন্দোনেশিয়া। ২০৩১ সালের মধ্যে দেশটিতে ধনীদের সংখ্যা রেকর্ড ৮২% বাড়বে। এর পরেই আছে সৌদি আরব ও পোল্যান্ড (উভয় দেশেই বর্তমানের চেয়ে ৬০%-এর বেশি বাড়বে)। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভিয়েতনামে ধনী বৃদ্ধির হার প্রায় ৬০%। ইউরোপের সুইডেন, রোমানিয়া এবং গ্রিসেও ধনীদের সংখ্যা বেশ ভালোই বাড়ছে।

অস্ট্রেলিয়ার দারুণ পারফরমেন্স
অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশের আকারের চেয়েও অর্থনৈতিকভাবে অনেক বড় চমক দেখাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশটির অতি-উচ্চ ধনীর সংখ্যা প্রায় ৬০% বেড়ে যাবে। এর অর্থ হলো, অস্ট্রেলিয়ার প্রতি ১ হাজার মানুষের মধ্যে একজনই হবেন খুব ধনী। শুধু খনিজ বা কৃষির ওপর ভর করে নয়, ফাইন্যান্স এবং নতুন প্রযুক্তি খাতের জোড়ে দেশটিতে এই সম্পদ তৈরি হচ্ছে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে সেখানে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ৭৭% বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র রাজত্ব
যুক্তরাষ্ট্র্রের অর্থনীতির আকার এত বিশাল যে, তার ধারেকাছে কেউ নেই। শতাংশের হিসাবে দেশটির ধনী বাড়ার গতি হয়তো নতুন দেশগুলোর চেয়ে কম মনে হতে পারে, কিন্তু সংখ্যার দিক থেকে তারা অনেক এগিয়ে। আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আরও ১ লাখ ৩৬ হাজার জন নতুন ধনী তৈরি হবেন, যা বিশ্বের অনেক অঞ্চলের মোট ধনীর চেয়েও বেশি। দেশটির শেয়ার বাজার, ব্যাংক-ফাইন্যান্স এবং বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির জোয়ারের কারণেই সেখানে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদ তৈরি হচ্ছে।
ভারতের শক্তিশালী অবস্থান
ভারতের সম্পদ বৃদ্ধির গল্পটি চমকপ্রদ। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতে ৩ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিকদের সংখ্যা ৬৩% বেড়েছিল (১২ হাজার থেকে প্রায় ২০ হাজার জন)। প্রযুক্তি, ব্যবসা এবং শেয়ার বাজারের অভাবনীয় উন্নতির কারণে এটি হয়েছে। এই বৃদ্ধির ধারা সামনেও বজায় থাকবে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে ভারতে অতি-উচ্চ ধনীর সংখ্যা আরও ২৭% বেড়ে ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ডিজিটাল বিপ্লব এবং পারিবারিক ব্যবসাগুলোর হাত ধরে ভারতের এই ধনী গোষ্ঠী এখন বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্রভাব ছড়াচ্ছে।