Advertisement Banner

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারাল বাংলাদেশ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারাল বাংলাদেশ
উইকেটের পর বাংলাদেশ দলের উদ্‌যাপন। ছবি: বিসিবি

একটু দেখিয়ে দেওয়ার রোমাঞ্চেই কি না, জস ইংলিসকে করা প্রথম বলটাতেই বিশাল এক ওয়াইড দিয়ে বসলেন নাহিদ রানা। পরের বলেও ছিলেন কিছুটা এলোমেলো, হজম করলেন চার। তবে তাতেও দমে যাননি তরুণ এই পেসার। চোখে চোখ রেখে বল করে গেছেন পুরোটা সময়। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ককে ফিরিয়ে দিয়ে কিছু একটা বলেও জড়িয়ে পড়েন কথার লড়াইয়ে।

যে আগ্রাসনের জন্য বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়া, গোটা স্পেলেই তাদের বিপক্ষে সেটাই করে দেখালেন নাহিদ। আর সেটাই গড়ে দিল ব্যবধান। আগ্রাসী ক্রিকেটে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ পেল স্মরণীয় এক জয়।

সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে খুব একটা ইতিবাচক মন্তব্য করতে চাননি জস ইংলিস। মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতেই হয়তো এমনটা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেটিকে যেন ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ বানিয়ে ফেলেন নাহিদ। উপহার দেন আরেকটি গতিময় বোলিংয়ের অপূর্ব প্রদর্শনী। বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করানোর পর অন্য বোলাররাও দেন যোগ্য সঙ্গ।

মিরপুরে এদিন বাংলাদেশের করা ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের জবাবে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধের আগে অস্ট্রেলিয়া করতে পারে ৪২.২ ওভারে ১৯১ রান। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ জিতেছে ৮৬ রানে। এর মধ্য দিয়ে ২০০৫ সালের পর প্রথমবার ওয়ানডেতে অজিদের হারানোর স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ।

সাম্প্রতিক ফর্ম আর পেসারদের উদ্ভাসিত নৈপুণ্যের কারণে এই সিরিজে কিছুটা এগিয়েই ছিল বাংলাদেশই। সঙ্গে যোগ হয় ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শের অনুপস্থিতি। অনভিজ্ঞ এই দলের অধিনায়ক ইংলিস হয়তো দলকে চাঙ্গা রাখতেই দুই দলের পেস আক্রমণের তুলনা টেনে মন্তব্য করেছিলেন।

ইংলিস ক্রিজে আসতেই যেন আরও তেতে ওঠেন নাহিদ। প্রথম ওভারটা খুব ভালো না গেলেও অমন গতির বোলারদের ক্ষেত্রে সেটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। রান দেবেন, তবে পার্থক্য গড়ে দেবেন এক-দুটি ওভারেই। দুই ওভার বাদে ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার গতির অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরান ইংলিসকে।

তবে নাহিদের আগেই নিজেদের উপস্থিতি জানান দেন অন্য পেসাররা। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে ক্লিন বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। এর মধ্য দিয়ে দেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট পাওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের চতুর্থ বোলার হিসেবে এই রেকর্ডে নাম লেখান তাসকিন। তার আগে এই কীর্তি ছিল সাইফুল ইসলাম (১৯৯৫), সৈয়দ রাসেল (২০০৬) ও মাহবুবুল আলমের (২০০৯)।

এর পরের ওভারেই উইকেটের দেখা পান মোস্তাফিজুর রহমান। লেগ বিফোরের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। মাত্র ১ রানেই সাজঘরে ফিরতে হয় মার্নাস লাবুশেনকে।

কুপার কনোলিকেও ফেরাতে পারতেন মোস্তাফিজ। তবে ১ রানে থাকা অবস্থায় স্লিপে তার দেওয়া সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ হাসান। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ত্রিশের ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন কনোলি। তার দুর্বলতার জায়গা অফ স্পিন হলেও মেহেদি হাসান মিরাজ তাকে বিপদে ফেলতে পারেননি। তবে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক হোসেন এসেই সোজা ডেলিভারিতে বোল্ড করেন কনোলিকে।

কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে উঠছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি। দারুণ কিছু শটে তিনি যেভাবে ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছিলেন, তাতে চার উইকেট হারিয়েও ম্যাচে টিকে ছিল অস্ট্রেলিয়া। তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন নাহিদ। গতি দিয়ে পরাস্ত করেন ক্যারিকেও (৪৭)।

এরপর আরও দুটি উইকেট তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার। দুটিই ছিল ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে। সম্ভাবনা জেগেছিল টানা তৃতীয় সিরিজে পাঁচ উইকেট পাওয়ারও। শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য সেই মাইলফলক স্পর্শ করা হয়নি। স্পেল শেষ করেন ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে।

এর আগে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন দীর্ঘ চার বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন। ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে নেমে অপরাজিত থাকেন ৮৬ রানে। মাত্র ৭০ বলে খেলা ইনিংসে তিনি মারেন ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা।

টপ অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তানজিদ হাসান (৫৪) ও নাজমুল হোসেন (৬৭)। পাঁচ নম্বরে নেমে তাওহীদ হৃদয় ৩১ রান করলেও তার স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৬০.৭৮।

সম্পর্কিত